Print

সারাদিন

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্, গাস্ট ৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খসড়া আইনে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে গুমের ফলে কারও মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান না মিললে অপরাধীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিতের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

Nagad
Nagad

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচার কার্যক্রমও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। অনুমোদিত খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত করা হবে।