Print

সারাদিন

দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দিতে হবে সব হাসপাতালে: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহন, গাস্ট ৬, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

সড়ক দুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে দুর্ঘটনায় আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার বিধান যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর সায়দাবাদে ছিনতাইকারীর হামলায় গুরুতর আহত হন খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম। তাকে নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকে চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

Nagad
Nagad

রায়ে আদালত বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষায় দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারে না।

শুনানিতে রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে কোনো মানুষের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, সালাউদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালনের দাবি করেছে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারবে।

মামলায় স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিএমডিসি প্রেসিডেন্টসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল।