প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহন, গাস্ট ৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশে একটি ‘অমানবিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত ও বিচারের অংশ হিসেবে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘আয়নাঘর’ বা নির্যাতনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব স্থানে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ভিন্নমতের ব্যক্তিদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, জেআইসি ছিল গোপন বন্দিশালাগুলোর একটি, যেখানে মানুষকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। বিভিন্ন ব্যক্তিকে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সংস্থার তদন্ত ও সাক্ষীদের বক্তব্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসিতে নিয়ে নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে সেখানে বন্দি রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এ ধরনের বন্দিশালা ভবিষ্যতে যাতে আর প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তবে কোনো নাগরিক যেন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, জেআইসি ও টিএফআই সেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তে ভবিষ্যতে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
শনিবার ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারক, প্রসিকিউশন দল ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেআইসি পরিদর্শন করেন। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, সরেজমিনে স্থাপনাটি পরিদর্শন বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে গত ১ আগস্ট উত্তরায় র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডের ভেতরে থাকা আরেকটি কথিত আয়নাঘর পরিদর্শন করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।