Print

সারাদিন

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চান ট্রাম্প, হরমুজ নিয়ন্ত্রণের দাবি

প্রকাশিত: ১০:৫০ পূর্বাহ্, গাস্ট ১১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত পাঁচ দশকে ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে, তার জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ দাবি করেন। এমন সময় তার এই বক্তব্য এলো, যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে ইরান।

হরমুজ নিয়ে মুখোমুখি দুই দেশ

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পও পাল্টা দাবি করেছেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

Nagad
Nagad

ইরানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত চার মাসে ইরানে ৫২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মার্কিন সেনা ও ইরানে নিহত বেসামরিকদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে ইরান জানায়, জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হরানা ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।

হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, দুই দেশের আলোচনা সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে। নতুন নৌপথের একটি মানচিত্র নিয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

তবে নিরাপদ নৌচলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা ও সামুদ্রিক সেবা নিয়ে কিছু কারিগরি বিষয় এখনো সমাধান হয়নি।

সামুদ্রিক পরিবহন-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হরমুজে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত শুক্রবার ১৫টি জাহাজ পার হলেও শনিবার তা ১১টিতে এবং রোববার ছয়টিতে নেমে আসে।

‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে’

ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধকে ‘ইস্পাতের দেওয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, বর্তমানে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে এবং মার্কিন বাহিনী নৌপথটি মাইনমুক্ত করেছে।

তবে সামুদ্রিক পরিবহন-সংক্রান্ত তথ্য বলছে, বাস্তবে হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি এবং ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন চাপের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।