প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্, গাস্ট ১২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
সাভারের আশুলিয়ায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সক্রিয় সদস্য আরিফকে আটক করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। তবে সংগঠনটির কথিত মূলহোতা ও বোমা তৈরিতে দক্ষ নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’ পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িতে অভিযান চালায় সিটিটিসি। প্রায় চার ঘণ্টা বাড়িটি ঘিরে রাখার পর অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ি থেকে ১৫টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
সিটিটিসি জানায়, সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের একজন আরিফকে মঙ্গলবারের অভিযানে আটক করা হয়েছে। অন্যজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’, যিনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, ড্রাইভিং ও শিক্ষকতার ভুয়া পরিচয় দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে গত ২ আগস্ট বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন আরিফ।
পরে আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো ছয়টি পাইপ বোমা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, পুরো এলাকা নিরাপত্তার মধ্যে রেখে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। আটক আরিফের কাছ থেকে জেএমবির দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা বলেন, ২ আগস্ট বাসাটি ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়া নেওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন তারা। পরিবার নিয়ে থাকবেন ভেবে তাদের সন্দেহ হয়নি।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার একটি মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এর আগে রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকেও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। দুটি ঘটনার যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে ‘বোমারু মামুনের’ নাম সামনে আসে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য মুক্তি পান। তাদের কেউ কেউ নতুন করে ছোট ছোট সেল গঠন করে সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন ও বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর থেকে নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তিনি নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য ছিলেন।
২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে নব্য জেএমবির সদস্যদের অবস্থানের ঘটনায় ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ পরিচালনা করে সিটিটিসি। ওই অভিযানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম নামে এক হামলাকারী নিহত হন। ওই মামলার তদন্তেও বোমারু মামুনের নাম আসে।
তদন্তকারীদের দাবি, জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনায় মামুনের ভূমিকা ছিল।
সিটিটিসি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে বের হয়ে মামুন কেরানীগঞ্জ ও সাভারে অবস্থান শুরু করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অর্থ ও জনবল সংগ্রহের কাজ করছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। সূত্র: এনটিভি অনলাইন