প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্, গাস্ট ১২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কালি, পেরেইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেও জোরালো অভিযান চলছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের পর অন্তত ২১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। আরও কম্পন হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর বড় অংশই আবাসিক।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি, পেরেইরা ও চোকো অঞ্চল। প্রত্যন্ত চোকো অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি।
কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত শহরটিতে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। ভূমিকম্পে সেখানে প্রায় ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
কালির দক্ষিণাঞ্চলে ভ্যানেসা নামে একটি সাততলা আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাতুড়ি, কোদাল ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কংক্রিটের স্তর সরানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শত শত স্বেচ্ছাসেবক।
ধসে পড়া ভবনটি পাশের একটি নার্সারি স্কুলের ওপর পড়ে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ম্যাক্সিমিলিয়ানো হেরেরার দাবি, নার্সারিটির ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১৭ জন শিশু আটকে থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা কার্যক্রমের উপপরিচালক ক্যামিলা গোমেজ বলেন, এমন একটি এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে, যেখানে আগে থেকেই গভীর সংকট রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।