প্রকাশিত: ১০:০৯ অপরাহন, গাস্ট ১২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। একই সঙ্গে আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধেই আনা চারটি অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ হত্যা ও আহত করার ঘটনায় আসামিদের দায় রয়েছে। এ কারণে কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলন প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানো, সহিংসতার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি ফোনালাপ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন আসামির ভূমিকার বিষয়ও যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের।
এর আগে ৪ আগস্ট এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।
গত ২ আগস্ট মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।