Print

সারাদিন

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহন, গাস্ট ১৩, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। বিনিয়োগকারীদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। তাদের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন—এটি তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই শিখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সী, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

Nagad
Nagad

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দেশের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি।

সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত। এই রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে মার্কিন ব্যবসাগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা আরও ভালো ধারণা পেয়েছেন।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমাদের পুরো সরকারকে আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’

বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কিংবা পরামর্শক সেবা—যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের কাজে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানানো হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।