প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহন, গাস্ট ১৪, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
পিরোজপুরে ডিমের দাম বাড়লেও স্বস্তিতে নেই পোলট্রি খামারিরা। খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাজারে ডিমের বাড়তি দামের সুফল পাচ্ছেন না তারা। লোকসান সামলাতে না পেরে জেলার প্রায় ৩০০ খামার বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। এসব ডিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয়।
খামারিরা জানান, জুলাইয়ের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও আগস্টের শুরুতে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ডজনে প্রায় ২০ টাকা দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই বাড়তি দামের সুবিধা তাদের হাতে থাকছে না।
তাদের অভিযোগ, মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। ফলে খামার থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগেই ডিমের দামে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখ বলেন, ডিমের দাম বাড়লেও খামারিরা এর সুফল পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী কম দামে ডিম কিনে মজুত করেন এবং পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়েন। এতে খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের খামারি প্রসেনজিৎ হাওলাদার বলেন, ডিমের সিন্ডিকেট না ভাঙলে খামারিদের টিকে থাকা কঠিন। খাবার ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ এত বেড়েছে যে ডিম বিক্রি করে লাভ করা যাচ্ছে না। তিনি খাবার ও ওষুধের দাম কমানোর দাবি জানান।
নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের খামারি ফিরোজ শেখও একই অভিযোগ করেন। তার মতে, খাবার, ওষুধ ও মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি ঋণের বোঝায় পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে ডিমের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও বিক্রি কমেছে। বিক্রেতারা জানান, গত মাসের তুলনায় আগস্টে ডিমের বেচাকেনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতাদেরও বাড়তি দামে ডিম কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
একজন ক্রেতা বলেন, মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য ডিম তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। কিন্তু ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় এখন তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানান, পিরোজপুরে সাড়ে চার হাজারের বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে। বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা। তবে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং প্রায় ৩০০ খামার বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে প্রায় ১৬০টি খামারও তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, খামারি থেকে ভোক্তার হাতে একটি ডিম পৌঁছাতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামারিরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
খামারিদের দাবি, উৎপাদন খরচ কমানো, খাবার ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পিরোজপুরের গুরুত্বপূর্ণ পোলট্রি শিল্প আরও সংকটে পড়তে পারে। সূত্র: জাগো নিউজ