Print

সারাদিন

উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুট: গ্রেপ্তার ৫, জড়িত পেশাদার ডাকাত চক্র

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহন, গাস্ট ১৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে নেওয়ার পথে পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় সরাসরি ৮ থেকে ১০ জন জড়িত এবং তারা পেশাদার ডাকাত চক্রের সদস্য।

শুক্রবার রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন-ইলিয়াস শিকদার, জাফর, মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল, মিন্টু রাড়ী ও সাগর বাড়ৈ।

শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি ৭ দশমিক ৬৫ মিমি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, গত ৯ জুলাই সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের কাছ থেকে টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। তিন কর্মী একটি কাভার্ড ভ্যানে করে টাকা নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের একটি ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ থেকে ৭ জন অস্ত্রের মুখে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে আটজনকে দেখা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও দুজন ছিল। ফলে সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ জন সরাসরি জড়িত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে আরও ৬ থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। পুলিশের দাবি, তিনি পেশাদার ছিনতাইকারী এবং এর আগেও একই কায়দায় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকা লুট করেছেন। এছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

Nagad
Nagad

ডিবি জানায়, সাগরকে পোস্তগোলা থেকে ৯ লাখ টাকা, রুবেলকে যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় থেকে ৩ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লুটের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, চক্রের মূল হোতা বেশি টাকা নিয়েছে। আর বিভিন্নভাবে সহায়তাকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে টাকা ভাগ হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার মূল হোতা এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ডিবি প্রধান আরও জানান, পেট্রোল পাম্পের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে।