Print

সারাদিন

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৩৮

প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহন, গাস্ট ১৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর হওয়ায় ভূমিকম্পটির কারণে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক বেশি হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পর্যটন দ্বীপ বালির প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে। পরে একই এলাকায় ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এ ছাড়া উত্তর সুমাত্রায় ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ভবনের ধ্বংসাবশেষ ধসে পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

Nagad
Nagad

বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, সিক্কা প্রদেশে তিনজন, মাংগারাই প্রদেশে ছয়জন এবং পূর্ব মাংগারাই প্রদেশে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্তত দুজন গুরুতর এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের বড় অংশ ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ওই সময় আন্তদ্বীপ ফেরিতে ওঠার জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। জাহাজের সঙ্গে যুক্ত সিঁড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়লে কয়েকজন যাত্রী সাগরে পড়ে যান।

আতঙ্কে ঘরের বাইরে মানুষ

ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। উপকূলীয় সিক্কা এলাকার তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, প্রবল কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের ঘরে ছুটে যান।

তিনি জানান, অনেক মানুষ তখনই পাহাড়ের দিকে চলে যান। সাগরের পানি কিছু সময়ের জন্য অস্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠে উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা তুলে নেওয়া হয়। সতর্কতার সময় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান বা অন্যত্র আশ্রয় নেন।

তবে আফটারশকের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা এখনও ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। কেউ কেউ খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, মাংগারাই প্রদেশ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।

সূত্র: বিবিসি