প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্, গাস্ট ১৬, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ডারউইনে এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো টাইগারদের।
২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সুযোগেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা গড়ল ইতিহাস।
ডারউইনে প্রথমে ব্যাট করে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। ফলে ২২৮ রানের লিড পায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ২৮৪ রান পর্যন্ত যেতে পারে স্বাগতিকরা। এতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৬ রান।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ তামিমকে হারায় বাংলাদেশ। জশ হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম।
মুমিনুলের ৩০ এবং সাদমানের অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংসে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হাতে থাকে ৯ উইকেট এবং পুরো একদিন।
এর আগে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। দিনের শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। অ্যালেক্স ক্যারিকে ৩০ রানে ফেরানোর পর বিউ ওয়েবস্টার ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে পাঠান মিরাজ।
তবে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন। মিচেল স্টার্ককে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেন তিনি। স্টার্ক ৩৪ বলে ১৮ রান করে ফিরলেও গ্রিন তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
২০১ বলে ১০৪ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন গ্রিন। এরপর নাথান লায়নকে মিরাজ এলবিডব্লিউ করলে ২৮৪ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি শিকার করেন ৫ উইকেট। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এক অনন্য মাইলফলক। দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার পর অজিদের ঘরের মাঠে লাল-সবুজের এই জয় নতুন ইতিহাস লিখল।