প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহন, গাস্ট ১৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, খেলায় খেলায় শেখানোর মাধ্যমে শিশুদের চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের শুধু মুখস্থ করিয়ে ভালোভাবে শেখানো সম্ভব নয়। আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ তৈরি করতে খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। এতে শিশুদের শেখার সক্ষমতার পাশাপাশি ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও গড়ে উঠবে।
তিনি জানান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় খেলাগুলো নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলায় খেলায় শেখানোর জন্য শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করলেই হবে না, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও সেভাবে তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিকের শিশুদের জন্য বড় পরিসরের ক্রিকেট-ফুটবলের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে করা যায় এমন শিক্ষামূলক খেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
চীন ও জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে উল্লেখ থাকে।
বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে শিগগিরই আলোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় খেলনা ব্যবহারের একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় শেখাতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।