Print

সারাদিন

যে ৭ ধরনের আয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহন, গাস্ট ২০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

আয়কর রিটার্ন নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন—কোন ধরনের আয় থাকলে রিটার্ন দাখিল করতে হবে? চাকরি, বাড়িভাড়া, ব্যবসা কিংবা ব্যাংকের মুনাফা—বিভিন্ন খাতের আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। তবে কোনো খাতে আয় থাকলেই যে কর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আয় ও নির্ধারিত অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে চলতি অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল শুরু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বছরজুড়েই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন।

একজন করদাতার আয় সাধারণত সাতটি খাতে ভাগ করা হয়। এসব খাতের আয় যথাযথ কাগজপত্রের ভিত্তিতে রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়।

১. চাকরি থেকে আয়

বেতন, ভাতা, বোনাসসহ চাকরি থেকে পাওয়া আয় এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

২. ভাড়া থেকে আয়

Nagad
Nagad

বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে পাওয়া আয় রিটার্নে দেখাতে হয়।

৩. কৃষি থেকে আয়

কৃষিকাজ, ফসল উৎপাদনসহ কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয় এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

৪. ব্যবসা থেকে আয়

ব্যবসা, পেশা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়।

৫. মূলধনি আয়

কোনো সম্পদ বা বিনিয়োগ বিক্রি করে লাভ হলে তা মূলধনি আয়ের আওতায় পড়তে পারে।

৬. আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়

ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ থেকে পাওয়া আয় এ খাতে পড়ে।

৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়

রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী, বিভিন্ন ধরনের ফি ও নির্দিষ্ট অন্যান্য আয় এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে এসব খাতের যেকোনো একটিতে আয় থাকলেই আয়কর দিতে হবে—এমন নয়। রিটার্ন দাখিল এবং আয়কর পরিশোধ এক বিষয় নয়। নির্ধারিত করযোগ্য আয় না থাকলেও আইনে উল্লেখিত কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।

সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে মোট আয় করমুক্ত সীমা ছাড়ালে রিটার্ন দিতে হয়। এ ছাড়া আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, ফার্মের অংশীদার হলে, কোম্পানির পরিচালক বা কর্মচারী হলে, সরকারি কর্মচারী হলে কিংবা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষেত্রে আয় কম হলেও রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পুরুষ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতার ক্ষেত্রে এ সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতার ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটেড যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধার ক্ষেত্রে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে বাবা-মা বা অভিভাবক নিয়মিত করমুক্ত আয়সীমার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাবেন।