প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহন, গাস্ট ২২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই স্পট মার্কেট থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) এলএনজিবাহী কার্গো পৌঁছানোর পর টার্মিনালে গ্যাস খালাস শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, তিন দিন আগে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যায়। ফলে এ টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের গ্যাস সরবরাহে।
এর আগে পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য পরবর্তী এলএনজি কার্গো রোববার পৌঁছাতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন কার্গো এসে পৌঁছানোয় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জন্য আনা আরও একটি কার্গো পৌঁছেছে। এতে টার্মিনালটিতে এলএনজির মজুত বেড়েছে। তবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামিটের টার্মিনালটি আগে থেকেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। ফলে নতুন কার্গো এলেও তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ নেই।
গত বুধবার দুপুরের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সব মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ দাঁড়ায় ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ঘাটতি ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট।
দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার সক্ষমতার বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। নতুন কার্গো আসার পর টার্মিনালটি চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।