প্রকাশিত: ৯:১৪ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইমেইলের মাধ্যমে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। হুমকির পর দূতাবাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নামে ইমেইল করে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদর দপ্তর ও সিটিটিসিকে অবহিত করে।
পরে ২০ আগস্ট সকালে ঢাকার বারিধারায় চীনা দূতাবাসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত কয়েকজন চীনা নাগরিকও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দূতাবাসের নিরাপত্তা এবং হুমকির উৎস শনাক্তে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
হুমকিদাতাদের শনাক্তে তদন্ত
সিটিটিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হুমকির খবর পাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তারা দূতাবাসে গিয়ে বৈঠক করেছেন। কারা এবং কোন সংগঠনের নামে ইমেইলটি পাঠানো হয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে। ডিপ্লোমেটিক জোনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা দূতাবাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখভাল করছেন।
জাপানি দূতাবাসেও বৈঠক
চীনা দূতাবাসে বৈঠকের পর জাপানি দূতাবাসেও যান সিটিটিসির কর্মকর্তারা। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে উগ্রবাদী কোনো নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাড়ানো হয়েছে নজরদারি
চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গুলশান, বারিধারাসহ বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের বসবাস করা এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় থাকা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হুমকিদাতা ব্যক্তি বা সংগঠনকে শনাক্ত করা এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।