প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহন, গাস্ট ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
নিউইয়র্ক ও সিডনিতে নতুন ফ্লাইট চালু, লিজে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনসহ দেশের বিমান খাত নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে অফিস করে কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
নতুন মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাই তার প্রথম কাজ। কাজের গতি বাড়াতে টিমওয়ার্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অন্তত একদিন তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অথবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে কাজ করতে চান।
নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইটের পরিকল্পনা
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় মান অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এ ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে সিডনিতেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন নতুন বিমানমন্ত্রী।
লিজে আসবে ১০ উড়োজাহাজ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজ সংকট থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ানো যাচ্ছে না বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে পরের বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখতে লিজে উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্য
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি মাসের ২৫ তারিখে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। মূল্যায়ন শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি চুক্তি সইয়ের আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি সইয়ের পর দ্রুত কাজ শেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে।
অক্টোবরে চালু হতে পারে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী অক্টোবরের মধ্যে চালুর আশা প্রকাশ করেছেন বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করার প্রত্যাশা রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে দেশের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করে সেখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈশ্বরদীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকায় ইউরেনিয়াম পরিবহন এবং সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরটির গুরুত্ব বাড়ছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরটির প্রায় ৬ হাজার ফুট রানওয়ে রয়েছে। এটি আরও প্রায় আড়াই হাজার ফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রানওয়ে সংস্কার এবং একটি ছোট টার্মিনাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যাত্রী হয়রানি ও পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রী হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সর্বত্র পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলা।