প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৫, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পরিবর্তনের গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় এবং এ জন্য সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।’
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কোনো দলের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে বাধা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি আবার সংসদে নেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা হবে। তিনি বলেন, সরকার জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। কোনো ক্ষেত্রে সফল না হলে সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত। আইন পরিবর্তনযোগ্য এবং এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গ রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যৌক্তিক কোনো প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরতে চাই না। আমরা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’
একটি গুমের অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, তবে রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব নয়।
সরকারের দুর্বলতা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ। বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায়। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন।’
সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে সংস্কারের জন্য, কোনো বিপ্লব হয়নি। সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সব অংশীজনের গঠনমূলক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে রাজনৈতিক দূরত্ব কমাতে হবে।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় আইনের শাসন, মানবাধিকার, পুলিশ সংস্কার, মব সহিংসতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐকমত্য এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।