Print

সারাদিন

দাম সমন্বয় না হওয়ায় ৬০ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন বন্ধ

প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহন, গাস্ট ২৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন দাম সমন্বয় না হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে কোম্পানিগুলো এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

বাপির নেতারা বলেন, মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে ওষুধ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ ১৯৯৪ সালের মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর ভিত্তিতে এখনো এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত ৩২ বছরে মাত্র দুবার ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

এর ফলে অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে কোম্পানিগুলোর লোকসান হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় রোগীদের এসব ওষুধের পরিবর্তে তুলনামূলক বেশি দামের বিকল্প ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে।

বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯টি ওষুধ উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিত হয়নি। বাকি ৯৮টি ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এসব ওষুধের উৎপাদন খরচ উঠে আসছে না। দাম সমন্বয় না হওয়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধশিল্পকে শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদের পাশাপাশি দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ ও টেকসই নীতি প্রয়োজন।

Nagad
Nagad

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে এসব ওষুধ সরবরাহ করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওষুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। ফলে কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও অনেক ক্ষেত্রে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে।

ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিরা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নিয়মিত হালনাগাদ এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র: সমকাল