Print

সারাদিন

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহন, গাস্ট ২৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

সরকারের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টির মানসিকতা নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো কনসার্ট বাতিল হওয়ার পেছনে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সেটিকে সরকারের অসহযোগিতা বা আপত্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করেনি, তা নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার বিষয় ছিল, আরও অনেক কিছু ছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে কনসার্ট বাতিল হতে পারে। সব সময় কারও আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয় বিষয়টি এমন নয়। কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি আশঙ্কা করা হলে সে কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মানসিকতা নেই

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

Nagad
Nagad

আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে। আমরা এ ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না- বলেন আন্দালিভ রহমান।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী সক্রিয়

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৪০-৫০ বছর ধরে আমরা দেখে আসছি, সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে। বাংলাদেশে এমন ঘটনা অনেক সময়ই ঘটেছে। এ নিয়ে আসলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে আমরা একসঙ্গে কীভাবে বসবাস করতে হয়, মানুষ কীভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয় তা জানি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সহাবস্থান রয়েছে। কিছু কিছু মানুষ বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান। এটা হতেই পারে। তবে ইনশাআল্লাহ, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আইন অনুযায়ীই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যে অবস্থায় চলে গিয়েছিল, সেখান থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, বরং নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, একটা ঘটনা ঘটছে না, তা নয়। একটা সময়ে যখন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায় এবং দেড়-দুই বছর ধরে কিছু গোষ্ঠী ওপরে উঠে যায়, তখন রাতারাতি সবকিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যতটুকু উন্নতি হয়েছে, আমি এটাকে অনেক বড় ইমপ্রুভমেন্ট মনে করি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চর্চা বাড়ানো, সেটা ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে উনার মতো মনোযোগী, আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কখনো পেয়েছে কি না, আই অ্যাম ইন ডাউট।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানসিকতার বিষয়। নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়। গত ১৭ বছরে সমালোচনা শোনার সেই মানসিকতা ছিল না।

তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্টভাবে সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ। আপনারা আছেন বলেই আমরা এখানে আছি, আমরা আছি বলেই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

নিউজ ডিকটেট বা কমেন্ট করার পজিশনে নেই

সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার কোনো নির্দেশনা দিতে পারে না উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, আপনারা যখনই নিউজ করবেন, অবশ্যই আপনাদের নিউজ আপনারা করবেন। আমরা আপনাদের নিউজ ডিকটেট বা কমেন্ট করার পজিশনে নেই।

তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর পর যে দায়িত্ব সরকার পেয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের একটি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিস্টেম হ্যাজ বিন ক্রাপটেড।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের প্রতিটিতে নয়টি করে ওয়ার্ড রয়েছে। ফলে প্রায় ৩৬ হাজার ওয়ার্ডে কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো ছোটখাটো অপরাধ ঘটতে পারে। প্রতিটি ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের পাতায় তুলে ধরা হলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে দেশে কেউ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমাদেরও যেমন দায়িত্ব, অবশ্যই আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন বস্তুনিষ্ঠ। এটা কোনো কিছু না। কিন্তু এটা মাথায় রাখবেন যে, এটা কোনো স্বাভাবিক সময়ে আমরা সরকারের দায়িত্ব আসিনি।

বাংলাদেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে

আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে একই আমলাতন্ত্র নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

‘উই হ্যাভ দ্য সেম ব্যুরোক্রেসি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান আমলাতন্ত্রকে নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের যে প্রশাসনিক ধারা চলে এসেছে, সেটিও এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

বিটিভিতে নিজের ছবি কম দেখানোর অনুরোধ
সরকারের গণমাধ্যমবান্ধব মনোভাবের উদাহরণ দিতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় তার ও প্রতিমন্ত্রীর প্রথম অনুরোধ ছিল তাদের ছবি যেন যতটা সম্ভব কম দেখানো হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার কারণে এটিও পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, রীতিটাই এমনভাবে হয়ে আসছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটা প্রসেসের মধ্যে আছি। আমার বিশ্বাস, আপনারা সঙ্গে থাকলে, দেশের মানুষ সঙ্গে থাকলে আমরা ঠিকমতো এগিয়ে যেতে পারব।

শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের দেশে এনে বিচার চায় সরকার
ভারতে অবস্থান করা পালাতক শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু একজনকে নয়, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চায়।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনসহ এর আগের ঘটনাগুলোরও সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন। ভারতের আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ বাংলাদেশের জন্য খুব একটা শুভকর নয় বলেই তার ধারণা।

তিনি বলেন, সরকারের মূল দাবি একই যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যাদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন, তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করা।

ইতিবাচক সংবাদ সরকারকে আরও ভালো কাজে উৎসাহ দেবে
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরা হলে সরকার আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে।

তিনি বলেন, যে স্বাধীনতাটা এখন আছে, অতীতের চেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা এখন আমরা গণমাধ্যমে দেখছি। আমরা কিন্তু এটার প্রতিফলন নিউজে কখনো দেখি নাই। কোথাও লেখা আছে যে গত ছয় মাসে গোয়েন্দা সংস্থার কোনো ব্যক্তি গণমাধ্যমে ফোন করেননি। আমরা কখনো দেখি নাই যে ছয় মাসে কোনো গুম এবং বিচারবহির্ভূত সরকারের মদদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।

গণমাধ্যমকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন পজিটিভ নিউজ করবেন, আমরা কিন্তু এনকারেজড হবো, সরকার এনকারেজড হবে। আমরাও তো মানুষ। আমাদের যখন পজিটিভ নিউজগুলো তুলে ধরবেন, তখন আমরা আরও ভালো কাজ, আরও ইমপ্রুভ করার অনুপ্রেরণা পাবো।

সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবার আছে
তবে সরকারের সমালোচনার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গণমাধ্যম যা তুলে ধরতে চায়, তা প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবার আছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে সরকার ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার এবং রাষ্ট্রের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে, একটা লাইন আছে। এই জিনিসটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো সংবাদ কিংবা কোনো কিছু প্রচার করা ঠিক নয়।

সরকারি টেলিভিশনে বিরোধীদের খবর প্রচারের নির্দেশ

সরকারি টেলিভিশনে বিরোধী দলের খবর প্রচারের বিষয়েও নতুন নির্দেশনার কথা জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিটিভি, সংসদ টিভিসহ সরকারি টেলিভিশনগুলোতে শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের খবর প্রচার করা হবে না। আনুপাতিক হারে বিরোধী দলের সদস্য এবং সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচার করতে হবে।

তিনি বলেন, অন্তত উনাদের কথা, যেগুলো বলছেন সরকারের বিরুদ্ধে হোক, পক্ষে হোক, জনগণের পক্ষে যে কথাগুলো, সেগুলো তুলে ধরতে হবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।

সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে মঙ্গলবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।