Print

সারাদিন

কড়াইল-সাততলা-ভাসানটেকে আধুনিক আবাসন, বিনিয়োগ করবে চীন

প্রকাশিত: ১১:১৬ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৭, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। একসঙ্গে পুরো অর্থায়ন সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ করবে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, গুলশান এলাকা ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার তিনটি বস্তিতে আধুনিক আবাসন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব আবাসনে বর্তমান বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন করা হবে এবং তারা বিনা ভাড়ায় বসবাস করতে পারবেন।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ তলা ভবনে ছোট ছোট আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুট। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ বাসিন্দাদের বহন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ—ইআরডির মাধ্যমে চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে। চীনা পক্ষ পুরো প্রকল্পে একবারে অর্থায়ন সম্ভব না হলে পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনিয়োগের আগ্রহ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, বস্তিগুলোতে বর্তমানে বসবাসরত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আবাসনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।

Nagad
Nagad

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের বিনিয়োগ

বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মীর শাহে আলম জানান, আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে একটি চীনা কোম্পানি কাজ করছে। প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি হবে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, কোম্পানি ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

পয়োনিষ্কাশন ও সৌরবিদ্যুৎ খাতেও সহযোগিতা

দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্পের বাকি সংযোগ সম্পন্ন করতেও চীনের বিনিয়োগ চাওয়া হয়েছে। গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার পয়োনিষ্কাশন সংযোগ প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত করতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও গ্রামীণ হাটবাজারসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চীনের বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্য দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন শেখাতে চীন থেকে প্রশিক্ষক আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।