Print

সারাদিন

কাগজপত্র নেই, বাবার উপহার বলা তিন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৯, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

কক্সবাজারের একটি পাঁচতারকা হোটেলের পার্কিং থেকে বৈধ আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকায় তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা তরুণরা দাবি করেছেন, এগুলো তারা বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেলের পার্কিং থেকে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘ইউজড কার পার্টস’ ঘোষণা দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে পরে সেগুলো সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের একটি কৌশল গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেলের পার্কিংয়ে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি গাড়িতে কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। গাড়ির মালিক দাবিদারদের বৈধ আমদানি বা ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও তারা তা দেখাতে পারেননি।

গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা তরুণরা এগুলো ‘রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াধীন’ বলে দাবি করলেও এর পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি দেখাতে পারেননি। পরে আইন অনুযায়ী ডিটেনশন মেমো ইস্যু করে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা তিনজন দাবি করেন, তারা বাবার কাছ থেকে গাড়িগুলো উপহার হিসেবে পেয়েছেন। তবে এ দাবির সত্যতা নথিপত্র যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন রেজভী আহম্মেদ।

Nagad
Nagad

এর আগে একই ধরনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের একটি আবাসিক এলাকার পার্কিং থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করা হয়। গাড়িটির বৈধ আমদানি বা ক্রয়ের কোনো নথি দেখাতে পারেননি ব্যবহারকারী।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা গাড়িগুলো কীভাবে দেশে এসেছে, কোথায় সংযোজন করা হয়েছে এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। চোরাচালানের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া অবৈধ আমদানির প্রমাণ মিললে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। গাড়ির ব্র্যান্ড নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

অভিযানে র‍্যাব-১৫, কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সহযোগিতা করেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জব্দ করা গাড়িগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।