প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহন, গাস্ট ৩০, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়ীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডিসিসিআই মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্ক আইন এবং ব্যক্তিগত ই-রিটার্ন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও পরিমার্জন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
তাসকীন আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট, আয়কর, শুল্ক ও ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এসব সংশোধিত নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কর প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে সরকার স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ব্যবস্থার সুযোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এর অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ।
তিনি বলেন, রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অবদান রাখেন। তাই ব্যবসার সব ক্ষেত্রে আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পরিবর্তিত নিয়ম সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
নির্ঝর আহমেদ জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব উদ্যোক্তার এখনো ভ্যাট নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারা অনুযায়ী এক কর মেয়াদের পরিবর্তে তিন কর মেয়াদ পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের রিটার্ন ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
এ ছাড়া আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ১০ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান সংশোধন করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিলের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ এবং হাইকোর্টে আপিলের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যয় কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মশালায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বিষয়ে দুটি পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ও ভ্যাট-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ এবং কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল আলম, এফসিএ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় ঢাকা চেম্বারের সদস্যভুক্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের পরিচালক এম মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।