প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
কসমেটিকস, স্কিন কেয়ার ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পকে শুধু আমদানি-নির্ভর বাজার হিসেবে না দেখে উৎপাদন, রপ্তানি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপেটম্বর) রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬: পাওয়ার্ড বাই রিমার্ক হারলান’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের যে উৎপাদন সক্ষমতা, কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও বৈশ্বিক ক্রেতা-সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে কসমেটিকস খাতেও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, পণ্য প্রণয়ন, বিশেষায়িত প্যাকেজিং, মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার ও সনদায়ন সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সনদপ্রাপ্ত উদ্ভিজ্জ ও ভেষজ উপাদানের শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এ খাত শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করবে না, বৈশ্বিক বাজারেও নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের দৃষ্টিতে এ শিল্পের পরবর্তী ধাপ হলো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ থেকে বাংলাদেশে পণ্য প্রণয়ন, উন্নয়ন ও ব্র্যান্ডিংয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এ জন্য বিনিয়োগ সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষা ও সনদায়ন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, টেকসই প্যাকেজিং এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নিরাপদ কাঁচামাল ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সমন্বিত শিল্পভিত্তি তৈরি করা গেলে কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার খাত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান ও ভারতসহ ১৬ দেশের প্রসাধনী ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে শতাধিক পণ্যের স্টল, সরাসরি প্রদর্শনী, সৌন্দর্য পরামর্শ, ত্বক পরিচর্যা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য যোগাযোগ তৈরির সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইন্ডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএএ) সভাপতি বাহারুল মনসুর বলেন, কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার খাতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর বাড়ছে। এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সেনসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সিনিয়র পারফিউমার ফ্রাংক কেন্টন বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার। তবে এ বাজারের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করতে হবে এবং তা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
সাচিরোম লিমিটেডের পরিচালক ধ্রুব অরোরা বলেন, দেশে মানসম্পন্ন কসমেটিকস পণ্য পৌঁছে দেওয়া ও গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কসমেটিকা ঢাকা নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম।
স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়সাল মুনিম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত কসমেটিকা ঢাকা থেকে প্রত্যাশা, এ খাতে দেশি-বিদেশি আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে এবং এটি খাতটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজীন সুলতানা প্রিয়াংকা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ইনজিনিয়াস রিসোর্সের পরিচালক ফখরুল আলম, রিমার্ক হারলানের পরিচালক সুকান্ত দাস, এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডের নির্বাহী পরিচালক এবং আলিফ আতরের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল ও কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের আশা, এ প্রদর্শনী দেশের সম্ভাবনাময় কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।