Print

সারাদিন

মন্ত্রী আসার খবরে রাতারাতি বদলে গেল ওসমানী হাসপাতাল, অবাক রোগীরা

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের নরম ব্যবহার, রোগীদের জন্য গরম খাবার এবং ছুটির দিনেও চিকিৎসক-নার্সদের তৎপরতা-সব মিলিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ ছিল বদলে যাওয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে এমন পরিবর্তন দেখে অবাক হয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অচল শৌচাগার, নিম্নমানের খাবার, রোগীদের হয়রানি এবং দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে মেঝে ও বারান্দায়ও রোগীদের থাকতে হয়। এর মধ্যেই মন্ত্রীদের আগমন ঘিরে হাসপাতালজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার তৎপরতা বেড়ে যায়।

হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন ইয়াকুব আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বেডশিট ছাড়াই থাকতে হয়েছে তাকে। অনেক চেয়েও বেডশিট পাননি। তবে শুক্রবার সকালে মন্ত্রী আসার আগে তড়িঘড়ি করে তাকে একটি বেডশিট দেওয়া হয়।

ইয়াকুবের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ময়লা বিছানায় থাকতে হয়েছে তার স্বামীকে। শুক্রবার বেডশিট দেওয়া হলেও ক্ষোভের কারণে তারা সেটি ব্যবহার করেননি। তার ভাষ্য, মন্ত্রী আসার খবরে হঠাৎ করেই হাসপাতালের সবার আচরণ বদলে গেছে।

সুনামগঞ্জ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জাহাঙ্গীর আহমদ বলেন, যেখানে সাধারণত স্ট্রেচারই পাওয়া যায় না, সেখানে শুক্রবার জরুরি বিভাগের সামনে বেডশিট ও বালিশসহ স্ট্রেচার দেখা গেছে।

ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের রোগী হাফসা খান বলেন, ওই বিভাগের দুটি বাথরুমই নষ্ট। সেগুলো ব্যবহার করতে গেলে অসুস্থ বোধ হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় তেলাপোকার উপদ্রব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Nagad
Nagad

রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, মন্ত্রীদের আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু হয়। শুক্রবার সকালেও চলে পরিচ্ছন্নতার কাজ। শিশু ওয়ার্ডে মন্ত্রীরা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে বাথরুম পরিষ্কার করতেও দেখা যায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে।

মন্ত্রীদের পরিদর্শনের সময় রোগীদের খাবারও গরম করে পরিবেশন করা হয়। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক জানান, ছুটির দিনে সাধারণত চিকিৎসকদের পাওয়া কঠিন হলেও শুক্রবার চিকিৎসক ও নার্সরা বারবার রোগীদের খোঁজ নিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে তারা সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও গত ছয় মাসে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান বেড়েছে। ওসমানী হাসপাতালের কোনো সমস্যা থাকলে সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বড় পরিসরে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে সাড়ে ৭ হাজার নার্স, আড়াই হাজার চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে মোট ৪৩ হাজার ৩৯০ জন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মিডওয়াইফ ও পরিচর্যাসেবা-সংশ্লিষ্ট পদে ৮০ শতাংশ নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

মাসের শেষে হামের টিকা কর্মসূচি

হামের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসের শেষদিকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকা কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত টিকা আনা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিলের টিকা কর্মসূচিতে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা টিকা পায়নি। পরে ছয় মাস বয়স পার করলেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চলতি মাসের শেষদিকে আবারও কর্মসূচি শুরু করা হবে।

দালালমুক্ত করার উদ্যোগ

সরকারি হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি শ্রেণি রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা এবং অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।

সিলেটের নির্মাণাধীন ও অনুমোদিত সরকারি হাসপাতালগুলোও দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।