Print

সারাদিন

৮ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই রাজাপুর মডেল মসজিদে, বন্ধ অজুর পানি

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা আটদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে তীব্র গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ রয়েছে পাখা, বাতি, মাইক ও এসিসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পানির পাম্প বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে অজুর পানির ব্যবস্থাও।

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এরপর থেকেই মসজিদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

প্রতিদিন মসজিদটিতে আড়াই থেকে তিন শতাধিক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে ছয় থেকে সাত শতাধিক হয়। নারী মুসল্লিরাও এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। বিদ্যুৎ ও অজুর পানি না থাকায় তীব্র গরমে নারী-পুরুষ উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদে মুসল্লিদের অজুর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ। স্টাফদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বালতিতে করে বাইরের পুকুর থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পেশ ইমাম মুফতি মো. আলী হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে। অজুর পানি না থাকায় নামাজের সময় বাইরে গিয়ে অজু করতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমবে।

নিয়মিত মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, মসজিদে অজুর পানির ব্যবস্থা না থাকায় নামাজের সময় বাইরে গিয়ে অজু করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় জামাতও ছুটে যাচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

Nagad
Nagad

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গণপূর্ত বিভাগের একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মসজিদটির বৈদ্যুতিক সমস্যা পরিদর্শন করেছেন। মসজিদটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব। ওই পর্যন্ত বিদ্যুৎ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পর ভেতরে কী হয়েছে, সেটি তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এসে মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এগুলো ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে আটদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে মুসল্লিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ে। দ্রুত মসজিদের বিদ্যুৎ ও অজুর পানির ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা। সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়