প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে তাহমিদুল হাসান হামীম (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. রোহান উদ্দিনকে (১৯) স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহত হামীম ছদাহা ইউনিয়নের হাসমত আলী সিকদার দোকানসংলগ্ন এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে। রোহান একই ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ কাজিরখীল এলাকার ওসমান গণির ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে রোহান আমিরাবাদ যাওয়ার পথে তার প্রতিবেশী শাহানুরসহ কয়েকজন তার গাড়িতে ওঠেন। পথে হামীমের সঙ্গে শাহানুর ও অন্যদের মারামারি হয়। এ সময় রোহান মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে হামীমের ধারণা হয়, রোহানের ইন্ধনেই তাকে মারধর করা হয়েছে। পরে তিনি রোহানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এরপর হামীমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাসমত আলীর দোকান এলাকায় মহড়া দেয় বলে স্থানীয় কয়েকজন জানান। পরে তারা কাজিরখীল এলাকাতেও যান।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাতে রোহান, হামীমসহ কয়েকজন কেরানীহাট সিটি সেন্টারে জড়ো হন। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হামীম লোহার রড দিয়ে রোহানের হাতে আঘাত করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর রোহান সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হামীমের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন হামীম।
পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রোহানকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
গণপিটুনির পর স্থানীয়দের কাছে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে রোহান দাবি করেন, হামীমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। আমিরাবাদ যাওয়ার পথে তার এলাকার কয়েকজন ছেলে গাড়িতে ওঠেন। পরে হামীমের সঙ্গে তাদের মারামারি হয়। তখন তিনি মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে কেরানীহাট সিটি সেন্টারে হামীম তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে রাগের মাথায় তিনি ছুরিকাঘাত করেন।
নিহতের মামা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হামীম ও তার বন্ধুদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেটি মীমাংসার জন্যই হামীম কেরানীহাট সিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানেই মারামারির ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, হামীম গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বাবা মারা যাওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি খারাপ আড্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাকে ওই পরিবেশ থেকে সরিয়ে নিতে বিদেশে পাঠানোর জন্য পাসপোর্টও করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রোহান উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বজনেরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ওসি বলেন, শুধু হাসমত আলী সিকদার দোকান এলাকা নয়, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক কারবারিদের আটক করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে র্যালি ও সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে বিরোধের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না বা কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক রোহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছদাহার হাসমত আলী সিকদার দোকানসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে। গত এক থেকে দুই বছরে সেখানে মাদকের বিস্তার বেড়েছে এবং মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কিশোরদের বিভিন্ন দলও গড়ে উঠেছে।
ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব বলেন, স্থানীয়ভাবে মাদক বন্ধ করার মতো সক্ষমতা তাদের নেই। প্রশাসন আরও সক্রিয় হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাদক প্রতিরোধে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। তবে পুলিশের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সূত্র: সমকাল