Print

সারাদিন

গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল, ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

গভীর সমুদ্রে নতুন একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে গভীর সমুদ্রে আরও একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

Nagad
Nagad

এদিকে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বড় আকারের ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে আরও ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক অ্যাগ্রিভোলটেইক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও স্ট্রাকচারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে বিভিন্ন শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সম্প্রতি বিশেষ মূল্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা হিসেবে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম হিসাব করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে পারবেন। এ সুবিধা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।