প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
বিএনপির সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপির সদস্যরা হইচই শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রুমিনকে গালাগাল করা হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও প্রতিবাদ জানান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।
বিলের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেক সরকারের একটি চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না।’
এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। হট্টগোলের মধ্যেই রুমিন বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেইটাও হতে পারে না।’
বিএনপির সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে রুমিন আরও বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু! মনে হয় যেন এবার আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বিএনপি সরকার ১৮(ক) ধারা যোগ করেছিল। এই ধারা খেলাপি ঋণে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ তৈরি করেছিল বলে সমালোচনা হয়। বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর সরকার বুধবার সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে ধারাটি বাদ দেয়।
এ বিষয়ে রুমিন বলেন, ‘এই সংসদে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা-এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো বহু দেখেছি।’
নির্ধারিত সময় শেষ হলে রুমিনের মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন এবং সংসদে হট্টগোল চলতে থাকে। এ সময় সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য রুমিনের উদ্দেশে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে রুমিন বক্তব্য দিতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাঁকে বসতে বলেন। এ সময় রুমিন ও এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। হান্নান মাইক ছাড়াই বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।’ তিনি বিরোধী দলের অন্য সদস্যদেরও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে উনি (রুমিন) কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন? সংসদ সদস্য হিসেবে যে অধিকার ছিল, তা কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?’
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ সময় স্বাস্থ্যকর আলোচনা করার আহ্বান জানান। জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন সদস্য কথা বলতে পারবেন। অসংসদীয় বক্তব্য থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে। কোনো সদস্যকে বক্তব্যে বাধা দেওয়া ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বৈঠকে শৃঙ্খলা বজায় রাখা চিফ হুইপের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয় কী, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কী বললাম, আলোচনা কী হলো?’