Print

সারাদিন

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার তিনি পদত্যাগপত্র দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে একই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও। তবে সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা বলেন, বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় বৈধভাবে জমিটির মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Nagad
Nagad

বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন সায়মা। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি আবেদনের প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সায়মা বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছেও তিনি এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন বলে জানান।

সায়মা এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।