Print

সারাদিন

বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি, ভারত থেকে আসছে ৫০০ টন

প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। গত দুই-তিন মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা ভারতের গুজরাটের ভারুচ বন্দর ও পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার থেকে এসব ইলিশ আমদানি করেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসের পরিদর্শক আহসাদুল আলম ইলিশ আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমদানিকারকেরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অন্যান্য মাছের পাশাপাশি ইলিশ আমদানি করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কত পরিমাণ ইলিশ আমদানি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত এপার বাংলা থেকে বোয়াল, রুই, পারশে, টেংরা ওপার বাংলায় পাঠাই। তবে এবার ওখানে ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবার এখান থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হলো। বাংলাদেশে ডিমভর্তি ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাটের ইলিশে ডিম ভর্তি থাকে, তাই তা ওখানকার মানুষের প্রথম পছন্দ। ওই মাছের ডিম বের করে প্রক্রিয়াজাত করে তারা বিদেশেও রপ্তানি করছেন।’

সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, বর্তমানে ভারতে ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ ভালো থাকলে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ রুপিতেও পাওয়া যায়। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে পরিবহন খরচ ছাড়া গড়ে প্রতি কেজি ৬০০ রুপিতে ইলিশ বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ সরকারও কলকাতায় পূজার উপহার হিসেবে ইলিশ পাঠিয়ে থাকে। তবে এবার বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাংলাদেশের মৎস্য বিভাগের কাছে ইলিশের জন্য আবেদন করেছেন।

Nagad
Nagad

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে স্বল্প সময়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে আবেদন করেছে।

ভারতীয় আমদানিকারকদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়, বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম মাছ ভারতে পৌঁছায়। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরই অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে প্রকৃত রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৫০ টন। আর ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে যায় ৫৭৭ টন।