প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনাকে অন্যতম বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রিকশা ও হকারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
দায়িত্ব নেওয়ার পর অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় ছিল। প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। তাই দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অগ্রাধিকার ছিল সিটি করপোরেশনকে সক্রিয় ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। একই সঙ্গে জনগণের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা দ্রুত ও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানও অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে মশার উপদ্রব, ড্রেনেজ সমস্যা, জলাবদ্ধতা ও সড়কবাতিসহ বিভিন্ন সমস্যা কমিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা অভিভাবকহীন ও অকার্যকর অবস্থায় ছিল। এখন এটিকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়—এসব বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঢাকার সব নাগরিক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নগরবাসীর দায়িত্বশীল ভূমিকা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন কার্যালয়েও যেকোনো নাগরিক সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নগরের যেকোনো সমস্যার কথা দ্রুত জানানো যায়। গণমাধ্যমে কোনো সমস্যা উঠে এলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে সব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হয় না।
নিজের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মো. আব্দুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শহর পরিষ্কার ও সবুজ রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
অটোরিকশা চার জোনে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা
ঢাকার যানজট ও হকার ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর রিকশা ও হকারের সংখ্যা বেড়ে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। এ দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে একটি নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হকারদের ব্যবস্থাপনার পর অটোরিকশাকেও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি জোনের অটোরিকশা নিজ নিজ জোনের মধ্যেই চলাচল করবে। এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না।
গণপরিবহনেও শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ
গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে মো. আব্দুস সালাম বলেন, গণপরিবহনকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনতেই হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকাও ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে বাস পার্কিং করা যাবে না। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাও বন্ধ করতে হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মশা কখনো পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। তিনি বলেন, ডিএসসিসির কীটতত্ত্ববিদরা এ কারণে সব ধরনের ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেন না। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে পরিবেশ ও অন্যান্য উপকারী কীটপতঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মো. আব্দুস সালাম বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত রাখতে হবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক কম। গত কয়েক মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করায় মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে।
তবে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।