Print

সারাদিন

আলো ফিরেছে ঢাবি ক্যাম্পাসে, নিরাপত্তায় কার্যকর সিসিটিভির দাবি

প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে একসময় সন্ধ্যা নামলেই অনেক জায়গা গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যেত। কোথাও সড়কবাতি ছিল না, আবার কোথাও বাতি থাকলেও তা ছিল অচল। অন্ধকার এসব জায়গা দিয়ে চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করত। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিল উদ্বেগ।

তবে এখন বদলেছে রাতের ক্যাম্পাসের চিত্র। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সন্ধ্যার পর জ্বলছে সড়কবাতি। ফলে রাতের বেলা ক্যাম্পাসের বড় একটি অংশ আগের তুলনায় আলোকিত থাকছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু সড়কবাতি বাড়ালেই রাতের ক্যাম্পাস পুরোপুরি নিরাপদ হবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা, নিয়মিত টহল, বহিরাগত ও ভবঘুরে নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ছিনতাই ও মাদক সেবনের মতো ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি চালকদের অচেতন করে রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।

আলোয় কমবে অপরাধ

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান মনে করেন, ক্যাম্পাসজুড়ে আলোর ব্যবস্থা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তার মতে, পর্যাপ্ত আলো থাকলে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ অনেকাংশে কমবে। এর পাশাপাশি সিসিটিভি কার্যকর করা, ভবঘুরে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত টহল নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।

তিনি জানান, আগে ক্যাম্পাসের কিছু জায়গায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রাতে চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় কাজ করত। এখন আলোর পরিমাণ বাড়ায় রাতেও তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে।

Nagad
Nagad

নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অহনা আহসান বলেন, রাতের সড়কবাতি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে স্বস্তিদায়ক। কোনো কারণে রাতে হলে ফিরতে হলে অন্তত আলোকিত রাস্তা তাদের কিছুটা নিরাপত্তাবোধ দেবে।

তবে শুধু আলোর ব্যবস্থা করেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। তার দাবি, প্রক্টরিয়াল টিমের তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিসিটিভির সংখ্যা বাড়িয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে টহল ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যাও বাড়াতে হবে।

অপরাধী শনাক্তে সহায়ক হবে সিসিটিভি

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নোভা বলেন, পর্যাপ্ত আলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধী শনাক্ত করতেও সহায়ক হতে পারে। অন্ধকার জায়গাগুলো আলোকিত থাকলে চোর, ছিনতাইকারী বা মাদকসেবীদের অপরাধের সুযোগ কমবে। কোনো অপরাধ ঘটলেও অপরাধীকে শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হবে।

তার মতে, সড়কবাতির সঙ্গে সিসিটিভির সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার ফুটেজে অপরাধীর চেহারা বা গতিবিধি স্পষ্টভাবে ধরা পড়লে শনাক্তকরণ সহজ হবে।

সাধারণ পথচারীদেরও স্বস্তি

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারীরাও রাতে আলো বাড়ায় স্বস্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের অবস্থান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

এক পথচারী বলেন, রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত আলো থাকা ইতিবাচক। অন্ধকার বা আড়াল পাওয়া জায়গাগুলোতে কয়েকজনকে একসঙ্গে বসে থাকতে ও নেশাদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায়। এসব জায়গা আলোকিত হলে তাদের আড়ালে থাকার সুযোগ কমবে।

তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে ব্যক্তিদের অবস্থানের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ও মলমূত্র পড়ে থাকছে।

শুধু আলো নয়, প্রয়োজন টহলও

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিমেল বলেন, রাতের বেলা ক্যাম্পাসে বাতি বাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক। অন্ধকারের কারণে যেখানে ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি বেশি ছিল, সেখানে আলো থাকলে তা কমবে।

তবে শুধু আলো থাকলেই অপরাধ বন্ধ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এজন্য রাতে প্রক্টরিয়াল টিমের নিয়মিত ও দৃশ্যমান টহল প্রয়োজন। তার মতে, অপরাধ শুধু অন্ধকারে ঘটে না; দিনের আলোতেও ঘটতে পারে।

নতুন কোনো প্রকল্প নয়: প্রক্টর

সড়কবাতি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা হলেও একে নতুন কোনো প্রকল্প হিসেবে দেখছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসের রাস্তার পাশের লাইটগুলো প্রশাসনের কোনো নতুন উদ্যোগ নয়; এটি নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। নতুন করে কোনো লাইট লাগানো হয়নি।

তিনি জানান, পর্যবেক্ষণে কয়েকটি বাতি অচল এবং কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো সংস্কারের কাজ চলছে।

আসছে এআইভিত্তিক সিসিটিভি

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রক্টর। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কাজ চলছে। এ বিষয়ে উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

প্রক্টর জানান, এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কে প্রবেশ করছে ও কে বের হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ক্যামেরায় মানুষের চেহারাও আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হবে। অতীতে বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও সিসিটিভিতে সংশ্লিষ্টদের চেহারা স্পষ্ট না হওয়ায় অপরাধী শনাক্ত করা কঠিন হয়েছে। এ কারণে উপাচার্যও ডিজিটাল এআইভিত্তিক সিসিটিভি ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সূত্র: জাগো নিউজ