Print

সারাদিন

আইন মানার মানসিকতা না থাকলে শুধু জরিমানায় সমাধান সম্ভব নয়: ফটিকছড়ির ইউএনও

প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

ফটিকছড়ি উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। পাহাড় ধস ও বন্যা মোকাবিলায় বাজেটীয় অগ্রাধিকার, সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অবৈধ পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদে সারাদিন ডট নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ইউএনও।

আঞ্চলিক সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ফটিকছড়ির আটলেন সড়ক প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) মন্ত্রণালয়ের অধীন। এটি বড় বাজেটের একটি প্রকল্প। তবে স্থানীয়ভাবে সড়কে সৃষ্টি হওয়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় নিয়মিত কাজ চলছে।

হেলমেট ও লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু জরিমানার মাধ্যমে শতভাগ শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণের মধ্যে আইন মানার মানসিকতা ও আইনি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক সময় অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হুমকি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

উপজেলার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে ইউএনও জানান, পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ চলছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ধুরং খালসহ বিভিন্ন খালের ভাঙন প্রতিরোধে ছবি ও প্রামাণ্য দলিলসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মেরামতের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, বিশেষ করে শীত মৌসুমে এসব অপরাধ বেড়ে যায়। তবে উপজেলা প্রশাসন প্রতি মাসে গড়ে ৮ থেকে ১২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। এমনকি টানা ২১ দিন এবং ১৮ থেকে ১৯ দিন ধরে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার নজিরও রয়েছে।

Nagad
Nagad

জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন সনদ নিতে স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়ে ইউএনও বলেন, যেসব আবেদনকারী সঠিক তথ্য দিচ্ছেন, তারা সময়মতো সেবা পাচ্ছেন। মূলত তথ্যের অমিল বা ভুল তথ্যের কারণেই কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে।

সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো কর্মচারী টাকা দাবি করলে প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে।

উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইউএনও বলেন, ‘আমি কেবল জনপ্রিয়তার জন্য আসি নাই, কাজ করতে এসেছি। ফটিকছড়ির জনগণের সহযোগিতা পেলে এই উপজেলাকে একটি উন্নত ও সুশৃঙ্খল স্থানে পরিণত করা সম্ভব।’