Print

সারাদিন

ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু, এবার ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি ডিবির

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার মো. খোকন ও রাজিব মাতুব্বরই ছিনতাই ও রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত। ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ধরে টান দেন বলে জানিয়েছে ডিবি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে একই ঘটনায় ৩০ আগস্ট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-২ (এসআরবি-২)। তখন বাহিনীটি দাবি করেছিল, গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি প্রধান সন্দেহভাজন এবং সেন্ড্রিক ও রাকিব তার সহযোগী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। মোটরসাইকেলটির মালিক ছিলেন রাকিব। তিনজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তবে ওই সময় মোটরসাইকেলটির রং এবং গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পনি নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছিলেন।

ঘটনার ১৮ দিন পর মঙ্গলবার খোকন ও রাজিবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সংস্থাটি বলছে, এই দুজনই রনজিলার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত। এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার তিনজন এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তারা পৃথক একটি গ্রুপের সদস্য। এসআরবি যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, সেটিও রনজিলাকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়নি বলে দাবি ডিবির।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং রনজিলার লুট হওয়া ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রনজিলার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

Nagad
Nagad

রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন বলেন, উদ্ধার করা মালামাল তার স্ত্রীর। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারাই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশের কাছে তারা বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

যেভাবে শনাক্ত খোকন-রাজিব

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বগুড়া থেকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এসে ২৯ আগস্ট ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন শিক্ষিকা রনজিলা। ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই রিকশায় রনজিলার স্বামী আবদুল মতিনও ছিলেন। স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে খোকন ও রাজিবকে শনাক্ত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার গজারিয়ায়।

ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে খোকন ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগে তার ব্যবহৃত পোশাক, বাসের টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে রনজিলার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

এরপর বিরুলিয়া থেকে রাজিব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৬২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় ডিবি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ডিবির ভাষ্য, এই মোটরসাইকেলটিই ওই দিন ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ঘটনার সময় রাজিব সেটি চালাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি তার নিজের।

ডিবি আরও জানায়, রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে।

এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার তিনজন জড়িত নয়: ডিবি

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই খোকন ও রাজিবকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ডিবি প্রধান বলেন, এসআরবি তখন ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখার পর পার্থক্য পাওয়া যায়। ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রং এবং এসআরবির উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রং ভিন্ন।

আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের এ মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান শফিকুল ইসলাম। তবে পনির বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে এসআরবি-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, শুরু থেকেই তারা তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছিলেন। পনির সঙ্গে রাজিবের চেহারার অনেকটা মিল রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাই সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে তারা ওই মামলা থেকে রেহাই পাবেন।

মোটরসাইকেলটি রনজিলার স্বামীকে দেখানো হয়েছিল উল্লেখ করে নয়মুল হাসান বলেন, তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের মোটরসাইকেলেই ছিনতাইকারীরা এসেছিল।