Print

সারাদিন

জ্বালানি সংকটে দুই মাসে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ

প্রকাশিত: ১:৫৫ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

জ্বালানি সংকটে গত দুই মাসে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হলেও কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি জানান, গত সাত দিনের তুলনায় বর্তমানে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাটেক্সপো আয়োজন, নতুন বাজার ও ক্রেতা অনুসন্ধান এবং পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, হঠাৎ কোনো সংকটের কারণে একটি কারখানা দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় না। একটি কারখানা বন্ধ হতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। কারণ কারখানায় আগের ক্রয়াদেশ থাকে এবং শ্রমিকদের বেতনসহ বিভিন্ন দায়বদ্ধতা থাকে। ফলে মাত্র দুই মাসের জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এক বছর আগের কোনো সমস্যার কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হলে সেটিকে বর্তমান পরিস্থিতির দায় দেওয়া ঠিক হবে না। শিল্প খাতে কারখানা বন্ধ হওয়া এবং নতুন কারখানা চালু হওয়া একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এখনই কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন কমে গিয়ে কারখানাগুলো বন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জ্বালানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গ্যাসের অপচয় রোধ করে তা শিল্পকারখানায় সরবরাহের পরামর্শ দেন।

Nagad
Nagad

রপ্তানি পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত বছরের আগস্টে রপ্তানি কম থাকায় এবার প্রবৃদ্ধির হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাকশ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জমি বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন চলতি মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হবে।