প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নতুন নির্দেশিকায় ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের পাশাপাশি ‘ঐচ্ছিক পণ্য’ যুক্ত করা হচ্ছে। এসব পণ্য ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি পাবেন। রমজান মাসে এসব পণ্যের সঙ্গে ছোলা ও খেজুর যুক্ত হবে। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে চাল এবং সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে পেঁয়াজ, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য বিক্রি করা হবে।
‘ঐচ্ছিক পণ্য’ হিসেবে তিন ধরনের সাবান—সুগন্ধি সাবান, গুঁড়ো সাবান ও লন্ড্রি সাবান—এছাড়া লবণ, চা, আটা ও মসলা রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডধারীরা চাইলে এসব পণ্য কিনতে পারবেন, তবে কোনো ডিলার তাদের এসব পণ্য কিনতে বাধ্য করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তারাও এসব পণ্য কিনতে পারবেন।
জরুরি প্রয়োজনে সরকারের অনুমতি নিয়ে পেঁয়াজ ও আলুসহ যেকোনো ধরনের পণ্য বিক্রি করতে পারবে টিসিবি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে। শিগগিরই এটি জারি হতে পারে। নির্দেশিকা জারি হলে এ বিষয়ে আগে জারি করা সব পরিপত্র বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী টিসিবির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নতুন নির্দেশিকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিকল্পনার পাশাপাশি উপকারভোগী নির্বাচন, ডিলারদের মনিটরিং ও পণ্য বণ্টন প্রক্রিয়ায়ও কঠোরতা আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ‘আমরা চাই টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম আরও জনবান্ধব ও স্বচ্ছতার মধ্যে আসুক। যে কারণে নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।’
যেভাবে পণ্য পাবেন ফ্যামিলি কার্ডধারীরা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি পাবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে পাওয়া যাবে ৫ কেজি চাল।
এ ছাড়া রমজান মাসে ছোলা ও খেজুর এবং সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে সময়ে সময়ে পেঁয়াজ ও আলুর মতো নিত্যপণ্যও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
কারা পাবেন টিসিবির কার্ড
নতুন নির্দেশিকায় সমাজের প্রকৃত হতদরিদ্র, দিনমজুর, ভূমিহীন, কৃষি ও চা শ্রমিক, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অসচ্ছল ও কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা অথবা প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারও ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
তবে সরকারি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। সচ্ছল পরিবার কিংবা একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ একাধিক সদস্যকেও কোনোভাবেই কার্ড দেওয়া যাবে না।
এখন থেকে ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রেও অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ হবে তথ্য
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি এবং নিজস্ব নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে ‘টিসিবি সেবা অ্যাপস’-এর তথ্যভান্ডারে তথ্য যাচাই করতে হবে।
কার্ড হারিয়ে গেলে নির্ধারিত ফি দিয়ে পুনরায় আবেদন করা যাবে। নতুন কার্ডের ক্ষেত্রে অ্যাপের মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয়করণ সম্পন্ন করতে হবে।
ডিলারদের ওপর থাকবে কঠোর নজরদারি
টিসিবির ডিলারদের নির্ধারিত দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে মূল্যতালিকা এবং টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কথা উল্লেখ করে ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পণ্য বিক্রির সময় পয়েন্ট অব সেল মেশিন বা স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে পণ্য হস্তান্তর করতে হবে। কোনোভাবেই ফ্যামিলি কার্ডধারী ছাড়া অন্য কারও কাছে ভর্তুকির পণ্য বিক্রি করা যাবে না।
টিসিবি নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব ছাড়া অন্য কোথাও নগদ টাকা লেনদেন করা যাবে না। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর ডিজিটাল এপিআই নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তা মেলানোর পরই গুদাম থেকে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ে মনিটরিং কমিটি
টিসিবির পণ্য বিক্রয়ে অনিয়ম ঠেকাতে বহুমুখী মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন পর্যায়ে মেয়র, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব কমিটি গঠন করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘ট্যাগ টিম’ গঠন করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পণ্য খালাস ও বিতরণ করতে হবে। ডিলার নির্ধারিত ওজন ও গুণগত মান মেনে পণ্য দিচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করবে ট্যাগ টিম।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অনিয়ম ঠেকাতে যেকোনো সময় বিক্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সূত্র: জাগো নিউজ