প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনো কাটেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। দাম বাড়লেও অনেক মুদি দোকানে মিলছে না বোতলজাত তেল। দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও ২ ও ৫ লিটারের বোতলই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল নেই বললেই চলে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা বলছেন, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এরপরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। মূলত ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল কম ছাড়ছে।
বিক্রেতারা জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন।
তেল কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের চার-পাঁচটি দোকান ঘুরতে হচ্ছে। এরপর কোনো দোকানে পাওয়া গেলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, বাজারে আধা লিটার ও এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ একেবারেই নেই বললে চলে। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। বর্তমানে মাত্র দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে। চাহিদার তুলনায় এ সরবরাহ খুবই কম। তাও পাওয়া যাচ্ছে মূলত ২ ও ৫ লিটারের বোতল।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতি লিটার তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ২০৪ টাকা। অর্থাৎ ২ লিটার তেল কিনতে ক্রেতাকে ৪০৮ টাকা এবং ৫ লিটারের জন্য ১ হাজার ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা আরও জানান, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রয় কমিশনও একবারে কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটারে মাত্র ১ টাকা কমিশন দেওয়া হচ্ছে।
রামপুরা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ‘৫ লিটার তেল কিনলে এমনিতেই মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফাই ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা বিনিয়োগ করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।’
অন্যদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের মধ্যে খোলা তেলের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ থেকে ২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার দরে।