Print

সারাদিন

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বুকফাটা আর্তনাদে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছরের এই কিশোর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিমের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন অনেকে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম এবং গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন।

জানাজার আগে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এ সময় অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তারা।

এরই মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তুহিনের কাছে থাকার বিষয়টি তার মা স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি জানান, অপ্রতিমের পরিবারের মতো তারাও সন্তানের বিষয়টি নিয়ে কষ্টে আছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

Nagad
Nagad

উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায় তার মা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।