প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন-মরিয়মের স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমান। মামলার বাদী নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক দলও কাজ করেছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে এসব বিষয় জানিয়েছিলেন বলে তার বাবা অভিযোগ করেন।
মরিয়মের বাবা আরও অভিযোগ করেন, তার শ্যালক মো. ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। পরে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি তার শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ন্যাম ভবনের বাসায় যান। সেখানে একটি কক্ষে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের বিছানার ওপর হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়ার কথাও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। সেখানে ‘মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই’ এবং ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম, তার সঙ্গে জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে’—এ ধরনের কথা লেখা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চিঠিটি মরিয়মের নিজের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়; বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মামলার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।