প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দেশটির তিন সংবাদমাধ্যম—সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। নিজেদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলাটি করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠান তিনটি।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে করা আবেদনের ওপর চলতি সপ্তাহেই শুনানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো।
যৌথ বিবৃতিতে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো বলেছে, কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস ক্রেডেনশিয়াল বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশাসনের আপত্তির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিন প্রতিষ্ঠান বলেছে, সরকারের কাজ কোনো সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বা করবে না, তা নির্ধারণ করা নয়। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নিলে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত সংবাদ পরিবেশনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরদিন শনিবার প্রতিষ্ঠান তিনটির সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের আটকে দেওয়া হয় এবং কয়েকজনের প্রেস ব্যাজ অকার্যকর করা হয়।
ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ফেক নিউজ’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার কারণে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের ভেতরে তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে প্রবেশ করতে পারছেন না। সিএনএন ও এমএস নাও তাদের টেলিভিশন সরঞ্জাম এবং হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের নির্দিষ্ট ক্যামেরা অবস্থানও ব্যবহার করতে পারছে না বলে জানিয়েছে।
মামলায় তিন সংবাদমাধ্যমই দাবি করছে, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার এবং পঞ্চম সংশোধনীতে থাকা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বাতিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা সংগঠনও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে আইনি অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
মামলাটি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পর্ক এবং সরকারি কর্মকাণ্ড কভার করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে রূপ নিতে যাচ্ছে।