প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
পরোয়ানা জারি হওয়া অপর আসামিরা হলেন-ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল হক। তাবারেজ খান ভারতীয় নাগরিক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর গুলশান থানা পুলিশ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেন।
পরে আদালত মামলাগুলো আমলে নিয়ে গুলশান থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে এক মামলায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মশিউর রহমান এবং অপর মামলায় একই থানার উপপরিদর্শক মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার অভিযোগে শিহাব মাহমুদ বশির বলেন, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে তিনি দেশীয় ও আমদানি করা সবজি ও ফলমূল সরবরাহ শুরু করেন। শুরুতে নিয়মিতভাবে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হলেও পরে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, এক লাখ টাকার পণ্য সরবরাহের বিপরীতে বাদীর ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নগণ্য পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হতো। এ ছাড়া ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।