প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় ফুটপাতে বসে বিশ্রামরত নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় ওই গাড়িতে থাকা কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুল হক বাপ্পী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পরে গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে প্রাইভেটকারের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গাড়িতে থাকা ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে ওই রাতে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
পুলিশ জানায়, মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে এসে ফুটপাতে বিশ্রামরত মেহেদী হাসানকে চাপা দেয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ বের করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ওই কিশোর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তার ছেলে। গাড়িটি তার পরিবারের। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি একজন চালক চালাচ্ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসানকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেটকার থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে আসেন। গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোরকে নামতে দেখা যায়। অন্য পাশ থেকে শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিও নামেন। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা দুজনই গাড়ির পাশে যান। পরে ওই কিশোরকে সেখান থেকে একদিকে সরে যেতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই নিহত মেহেদী হাসানের ভাই মোক্তাদির ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গুলশানের বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। তবে মামলার আসামি আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।