প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
আফগানিস্তানে ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রয়টার্সও এ তথ্য জানিয়েছে।
তারার বলেন, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ড্রোন প্রবেশের পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত, অনুসরণ ও নিষ্ক্রিয় করে। এরপর আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে ‘নির্ভুল’ বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের দাবি, এসব স্থান থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণ করা হতো। হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কথিত ড্রোন হামলার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনা। হামলাগুলো নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলেও দাবি করেন তারার।
তবে হামলার ১০টি স্থানের অবস্থান পাকিস্তান সরকার নির্দিষ্ট করে জানায়নি। আফগানিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা অবশ্য পূর্বাঞ্চলের খোস্ত ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন। খোস্তের স্থানীয় কর্মকর্তার দাবি, সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার শহরের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, রাতে তিনি যুদ্ধবিমানের শব্দ ও বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। পরে শহরের কেন্দ্রে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বিমান ও ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কান্দাহারেই তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অবস্থান করেন বলে জানা যায়। তবে পাকিস্তান ১০টি হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কান্দাহার ছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি।
সীমান্ত উত্তেজনা
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। আফগান তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় তাদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলে দাবি করছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেও পাকিস্তান আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছিল। ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, ওই হামলায় ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আফগান তালেবান সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহের ওই লড়াইয়ে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পরে মার্চে যুদ্ধবিরতি হলেও নিরাপত্তা ও সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
নতুন করে বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে আরও কোনো হামলা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে। একই সময়ে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও সংলাপের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।