Print

সারাদিন

পুলিশকে মাদকের তথ্য দিন, কাজ না করলে দেখার দায়িত্ব আমার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, পুলিশকে মাদকের তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব জনগণের। পুলিশ সেই তথ্য অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব তাঁর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে একা সফল হওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘মা, ভাই-বোন, মুরব্বিরা যারা এখানে বসে আছেন—আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট এটা দমন করতে পারবে না। কে কোন গ্রামে-পাড়ায়, কোন দিক দিয়ে মাদক ঢোকে, কে বিক্রি করে, কে খায়—এটা আপনারা-আমরা যত ভালো জানি, থানা পুলিশ তত ভালো জানে না।’

মন্ত্রী বলেন, জনগণের দায়িত্ব হলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা। তবে জনগণ সহযোগিতা করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তাঁর।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত এবং কারা মাদক দিয়ে আগামীর প্রজন্মকে নষ্ট করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

Nagad
Nagad

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক গ্রহণের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাদকাসক্তির কারণে সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে।

মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক পাড়া, গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনসচেতনতা ও জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমেই এ সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলা করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।