প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণা, হ্যাকিং ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি। ই-মেইল, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সামান্য অসতর্কতাতেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারকরা। তবে খুব বেশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকলেও কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলে অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইয়াহুর এক প্রতিবেদনে অনলাইনে নিরাপদ থাকার ছয়টি সহজ অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে।
১. সফটওয়্যার আপডেট দ্রুত ইনস্টল করুন
ফোন, কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসে সফটওয়্যার আপডেটের নোটিফিকেশন এলে তা এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত ইনস্টল করা উচিত। নতুন ফিচার যুক্ত করার পাশাপাশি এসব আপডেটে নিরাপত্তা দুর্বলতা ও সফটওয়্যারের ত্রুটিও ঠিক করা হয়। নিয়মিত আপডেট ইনস্টল করলে সাইবার হামলার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
২. শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করাও নিরাপদ নয়। দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ভালো, যাতে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিভিন্ন প্রতীক থাকতে পারে। একাধিক পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা যায়।
৩. দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন
শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) চালু করা উচিত। এতে পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আরও একটি ধাপ যুক্ত হয়। মুঠোফোনে পাঠানো যাচাইকরণ কোড কিংবা অথেনটিকেটর অ্যাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপের পরিচয় যাচাই করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও অনলাইন ব্যাংকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে এই সুবিধা চালু রাখা নিরাপদ।
৪. সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না
ই-মেইল, খুদে বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অচেনা বা সন্দেহজনক লিংক এলে সরাসরি ক্লিক করা উচিত নয়। এসব লিংকের মাধ্যমে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে প্রতারকরা। কখনো ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যারও ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।
কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের নামে লিংক পাঠিয়ে লগইন করতে বলা হলেও সেই লিংকে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নিজে ব্রাউজারে খুলে প্রবেশ করা নিরাপদ।
৫. প্রয়োজন অনুযায়ী ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন
অনলাইনে বাড়তি গোপনীয়তার জন্য ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করা যায়। তবে ভিপিএন সব ধরনের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেয় না। তাই শুধু ভিপিএনের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনুসরণ করা প্রয়োজন।
৬. অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারে সতর্ক থাকুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা এড়িয়ে চলা উচিত। এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা পাসওয়ার্ড অনুমান বা প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে পোষা প্রাণীর নাম, জন্মদিন, শৈশবের তথ্য বা পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করলে তা বিভিন্নভাবে অপব্যবহার হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শুধু পরিচিত বন্ধুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং কোনো কিছু প্রকাশের আগে একবার ভেবে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে নিরাপদ থাকার জন্য তাই জটিল কোনো প্রযুক্তিগত দক্ষতার চেয়ে নিয়মিত কিছু সতর্ক অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার আপডেট রাখা, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সতর্ক থাকলে অনলাইন ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।