প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফভি। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ‘পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ’ অব্যাহত রাখবে ইরান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম ফার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মেজর জেনারেল সাফভি বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার একটি নির্দিষ্ট কৌশল বা পদ্ধতি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে যৌথভাবে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে ওই প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বাধা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে এর আগে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ জলপথটির ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে যৌথ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
সাফভি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত ও সামরিক সংযোগ তৈরি হলে তা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বদলে দিতে পারে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রশংসা করে ইরানের এই সামরিক উপদেষ্টা বলেন, তাদের নিজস্ব লক্ষ্য ও রণকৌশল রয়েছে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকেও তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে এবং অস্ত্র উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় সাফভি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি আবার ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর এবং এর দূরবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান প্রণালির ব্যবস্থাপনায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বজায় রাখার কথা বলে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এমন ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে।