প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আবুধাবি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবি সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু।
সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহুর গোপন সফরের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ওয়াম জানিয়েছে, বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরও জোরদার ও উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরে পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সময়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে শেখ মোহাম্মদ নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন—এমন প্রতিবেদন নিয়ে ইসরায়েলে বিতর্ক চলছে। নেতানিয়াহুর দপ্তর অবশ্য ওই দাবি অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় ১০ দিন আগে শেখ মোহাম্মদ নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের দেওয়া হুমকির কথা জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মোহাম্মদ এর আগে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও সতর্ক করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছে, হামলার আগে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কোনো তথ্য পাননি। নেতানিয়াহু হারেৎজের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এবং প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অন্যান্য যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
এর আগে সপ্তাহান্তে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। পরে সোমবার ওয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে। সফরের বিস্তারিত আগে প্রকাশ না পাওয়ায় এটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে হয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে।