Print

সারাদিন

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনা, কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পারমাণবিক হুমকি রাশিয়ার

প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহন, অক্টোবর ১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিটমহল কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ নিজেদের সামরিক সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে মস্কো। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নথিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাঠানো ওই নথিতে রাশিয়া দাবি করেছে, কালিনিনগ্রাদে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো। মস্কোর ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। নথিতে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোতে’ সংঘাতের শুরুতেই রুশ হামলার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার ওই নথিটি কূটনৈতিক ভাষায় ‘নন-পেপার’ হিসেবে পরিচিত একটি অনানুষ্ঠানিক দলিল। এতে বলা হয়েছে, কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো চেষ্টা হলে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারে প্রস্তুত থাকবে মস্কো।

তবে রাশিয়ার এই হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ন্যাটো। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ন্যাটো একটি আত্মরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, ন্যাটোর কোনো সামরিক তৎপরতা বা মহড়া রাশিয়ার কোনো অংশের জন্য হুমকি তৈরি করছে না।

রুটে আরও বলেছেন, ন্যাটোর ভূখণ্ডে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই এবং রাশিয়ার এই পারমাণবিক হুমকিকে তিনি খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে রাশিয়া জয়ী হতে পারবে না।

কেন গুরুত্বপূর্ণ কালিনিনগ্রাদ

Nagad
Nagad

পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। অঞ্চলটি রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং সেখানে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।

রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাল্টিক অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগের পর দেশটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়া বাল্টিক সাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছে ফ্লেয়ার ছোড়ার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

রাশিয়া অবশ্য ন্যাটো দেশগুলোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা বাড়ানোর অভিযোগ করছে, যা রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে।