প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্, অক্টোবর ২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি সমর্থন জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের মিত্র নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও নির্বাচনে তাকে সমর্থনের বিষয়ে সরাসরি অবস্থান এড়িয়ে গেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত কি না-এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইসরায়েলিদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কাজ করতে পারে কি না, সে বিষয়েও ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, আইজেনকোট সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার কথাও বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এর আগে অনেকেই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তাই তাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু আগাম তথ্য পেয়েছিলেন কি না—এমন দাবির বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি ওই দাবির সঙ্গে একমত নন বলে জানান এবং বলেন, নেতানিয়াহু আগে থেকেই হামলার খবর জানলে ব্যবস্থা নিতেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, শুরুতে চার থেকে আট সপ্তাহের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে পরে অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, ইরান কিছু সময়ের জন্য জলপথটি বন্ধ রাখতে সক্ষম হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্র এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সঙ্গে ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলেও জানান।